খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন খেলার মাঠ, দর্শকদের সমাগমস্থল এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশের নিষিদ্ধ আকাশসীমা থেকে ছয়শর বেশি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন জানিয়েছে, বড় এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা শুরু থেকেই নজরে রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত এলাকায় কোনো ধরনের অননুমোদিত উড্ডয়ন ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ড্রোনগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, খেলা চলাকালে স্টেডিয়ামের চারপাশের নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো ধরনের উড়ন্ত বস্তু পরিচালনা করা নিষিদ্ধ। সাধারণ নিয়মে স্টেডিয়াম ঘিরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে এবং মাটি থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত আকাশপথে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। তবে বিশেষ অনুমতি থাকলে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজনকারী ১১টি শহরের প্রতিটিতেই নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো আয়োজক শহরই অননুমোদিত ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিল না। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় ড্রোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার দর্শক, খেলোয়াড় এবং আয়োজকদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মায়ামি শহর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। ডালাসে অনুষ্ঠিত পাঁচটি খেলার সময় আটক করা হয়েছে ৭০টির বেশি ড্রোন। নিরাপত্তাকর্মীরা আধুনিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব ড্রোনের অবস্থান চিহ্নিত করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন।
বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু খেলার মাঠ নয়, সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত জমায়েতের এলাকাগুলোর আশপাশেও ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব এলাকায়ও নির্দিষ্ট দূরত্ব ও উচ্চতার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রোন পরিচালনা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা, ফৌজদারি মামলা এবং ড্রোন বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেডিয়ামের আশপাশে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হয়েছে। এসব দল সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কোনো ড্রোন ঝুঁকি তৈরি করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ ইউনিটগুলোকে।
সম্প্রতি ডালাসের একটি স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর আগে নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে ৪০ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক ক্রিস্তোবাল তোরেস আলভারেজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অনুমতি ছাড়া নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় ড্রোন পরিচালনা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ড্রোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকিস্বরূপ ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।
বড় ক্রীড়া আয়োজনগুলোতে অননুমোদিত ড্রোন ব্যবহারের উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রোন উড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বিশাল আন্তর্জাতিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে দর্শক নিরাপত্তা এখন আয়োজকদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খেলা চলাকালে এবং আয়োজন সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় নিষিদ্ধ আকাশসীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য