
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১১১তম বারের মতো পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। পরে আদালতের শুনানি শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়। বছরের পর বছর ধরে তদন্ত প্রতিবেদন না আসায় নিহত সাংবাদিক দম্পতির পরিবার, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। নিজ বাসায় তাদের হত্যার ঘটনা সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব রয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময়ে আদালতের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করা হলেও প্রতিবারই নতুন তারিখ নিতে হয়েছে তদন্ত সংস্থাকে।
মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ে আলামত সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। এ কারণে মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।
সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সাংবাদিক দম্পতির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার শুরু থেকেই নিহতদের পরিবার ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছে।
দীর্ঘ সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়ায় দেশের অন্যতম আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড এখনো মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সাংবাদিক সমাজের প্রত্যাশা, একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১২ সালের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে বহুবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে পৌঁছায়নি। আগামী ১৫ অক্টোবর নির্ধারিত নতুন তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই এখন সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে। নিহত সাংবাদিক দম্পতির পরিবার ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
> মুক্তিপণ মামলায় গ্রেপ্তার এনসিপির পাঁচ কর্মী, তদন্তে নতুন প্রশ্ন
> বেঙ্গালুরুতে ১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, নাটক সাজিয়েও পার পেলেন না বাবা-মা
> দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, সরানো হলো ১২ হাজার মানুষ
> বৈরী আবহাওয়ায় শাহ আমানতে ফিরল তিন ফ্লাইট
> পানিতে ডুবে রেললাইন, চট্টগ্রামে আটকা পর্যটক এক্সপ্রেস
> ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছাড়াল ৭ হাজার, হাসপাতালে ৬১১ রোগী
> মধুপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
> মিশরের বিপক্ষেই ২১ বছর আগে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু মেসির
> ক্ষমা না চাইলে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে মামলা করবেন সিনেটর
> হামের প্রকোপে উদ্বেগ, এক দিনে আক্রান্ত প্রায় এক হাজার শিশু
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> পুতুলনাট্যে মুস্তাফা মনোয়ারের আজীবন সাধনা
> স্মরণ আঁধারের আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
> জাপানের বিপক্ষে আজ নেইমার কত মিনিট খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি
> হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আগামী ৩০ জুন
> ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> কার্বন ক্রেডিট বিক্রি: ২৫ কোটি গাছ রোপণে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য