খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম

বিশ্বকাপের মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি এবার বিতর্ক ছড়িয়েছে মাঠের বাইরেও। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ও প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়ার মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকবিতণ্ডা। প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে এমবাপ্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন প্যারাগুয়ের এই রাজনীতিক।
ঘটনার সূত্রপাত ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচকে ঘিরে। ওই ম্যাচে ফ্রান্স ১-০ গোলে জয় পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপ্পেকে লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন আমারিয়া। তিনি এমবাপ্পেকে ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতার ক্যামেরুনীয়’, ‘ফরাসি হওয়ার ভান করা অহংকারী’ এবং ‘কুৎসিত’ বলে আক্রমণ করেন।
পরে নিজের সেই পোস্ট সরিয়ে নেন প্যারাগুয়ের এই সিনেটর। তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। এমবাপ্পের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসার পর আমারিয়া আবার একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজের বক্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের তারকা ফুটবলারের কাছ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেন।
আমারিয়া জানিয়েছেন, তার বিরোধ ফ্রান্স বা দেশটির মানুষের সঙ্গে নয়; বরং পুরো বিষয়টি শুধুমাত্র এমবাপ্পের আচরণকে কেন্দ্র করে। তার অভিযোগ, ম্যাচের আগে ও চলাকালীন এমবাপ্পের কিছু মন্তব্য ও আচরণ প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের অসম্মান করেছে।
সিনেটরের দাবি, ম্যাচের আগে এমবাপ্পে এমন মন্তব্য করেছিলেন, যা প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের জন্য অপমানজনক। তিনি অভিযোগ করেন, ফরাসি অধিনায়ক বলেছিলেন, “যদি নোংরা খেলতে হয়, তাহলে নোংরাই খেলব।” তবে এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
আমারিয়া আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচ চলাকালে এমবাপ্পে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং একপর্যায়ে স্প্যানিশ ভাষায় অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন। এসব আচরণকে তিনি খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন।
ম্যাচ শেষে আরেকটি বিষয় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্যারাগুয়ের সিনেটর। তার অভিযোগ, এমবাপ্পে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে করমর্দন না করেই জয় উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমারিয়ার মতে, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ফুটবলের অন্যতম মৌলিক মূল্যবোধ।
তিনি বলেন, জয়-পরাজয় যাই হোক, খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান থাকা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, এমবাপ্পে সেই আচরণ বজায় রাখেননি।
তবে নিজের মন্তব্য নিয়েও অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন আমারিয়া। তিনি স্বীকার করেছেন, ক্ষোভ ও আবেগের বশে তিনি এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, যা গ্রহণযোগ্য ছিল না। পরে বিষয়টি উপলব্ধি করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি সরিয়ে দেন।
আমারিয়া বলেন, তিনি বুঝতে পেরেছেন যে নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এমন ঘৃণার ভাষাই ব্যবহার করেছেন, যার অভিজ্ঞতা তার নিজের জীবনেও রয়েছে। এ কারণেই তিনি পোস্টটি মুছে দিয়েছেন বলে জানান।
খোলা চিঠিতে আমারিয়া এমবাপ্পের কাছে নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে ‘নিকৃষ্ট’ বা ‘এই পদে থাকার অযোগ্য’ বলার অধিকার কারও নেই।
চিঠির শেষ অংশে তিনি অভিযোগ করেন, এমবাপ্পের মন্তব্য তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও লিঙ্গভিত্তিক আক্রমণের পর্যায়ে পড়েছে। ফরাসি তারকা ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাদের আচরণও প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রে আসে। এমবাপ্পে ও আমারিয়ার এই বিরোধ এখন সেই বিতর্কেরই নতুন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এমবাপ্পের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মন্তব্য