খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৬:২৭ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩০৬ জনে। তবে একই সময়ে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৯৬ জন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এই সময়ে বিভাগটিতে ৬৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর ঢাকা বিভাগে ৫২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪১ জন এবং খুলনা বিভাগে ২১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ৭ হাজার ৩০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা মহানগরসহ এ বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭০ জন।
বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৮ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৯০৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৫৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২৪ জন, সিলেট বিভাগে ৬৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন এবং বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৬৭৬ জন রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন।
বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ৬১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি আছেন ১৪১ জন। চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে এডিস মশার বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ে। তাই বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য