খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৬:১৮ পিএম

টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডিতদের প্রত্যেককে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আ. রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ জুন ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চলে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে একজন এবং পরে আরও দুই আসামি মিলে তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু জানান, আদালত মামলার প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর পৃথক ধারায় সাজা দিয়েছেন। তাকে ওই আইনের ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৯(৩) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপর দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা বিচারব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের রায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয় এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবী ও অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো।
মন্তব্য