খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুন ২০২৬, ৬:৬ পিএম

বরগুনা সদর উপজেলায় এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনায় এক মৌসুমি ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রক্তের দাগ, জুতার চিহ্ন এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় খালের পানিতে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কচুরিপানার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পরও নিহতের মাথার কোনো সন্ধান মেলেনি, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
নিহত ব্যক্তি মো. শামীম ব্যাপারী (আনুমানিক বয়স চল্লিশ), বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর সন্তান। তিনি স্থানীয়ভাবে মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন বাজারে ছোটখাটো পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে জানা গেছে।
Table of Contents
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | মো. শামীম ব্যাপারী |
| বয়স | আনুমানিক ৪০ বছর |
| পিতার নাম | মোনসের আলী ব্যাপারী |
| পেশা | মৌসুমি ব্যবসায়ী |
| গ্রাম | গৌরীচন্না |
| উপজেলা | বরগুনা সদর |
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর শামীম ব্যাপারী বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। রাত গভীর হলেও তিনি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকালে বাড়ির পাশে খালের পাড়ে স্থানীয়রা রক্তের দাগ দেখতে পান। একই সঙ্গে একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়, পরে আরও একটি জুতা পাওয়া যায়। এই সন্দেহজনক চিহ্ন দেখে স্থানীয়রা খালের পানিতে তল্লাশি শুরু করেন। কিছু সময় পর কচুরিপানার নিচ থেকে শামীম ব্যাপারীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়।
মরদেহ উদ্ধার হলেও নিহতের মাথা পাওয়া যায়নি। এরপর অগ্নিসেবা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খাল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে তল্লাশিতে কোনো সফলতা আসেনি। বর্তমানে পুলিশ এলাকাজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চালাচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা জানান, শামীমের কারও সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুতা ছিল বলে তাদের জানা নেই। হঠাৎ এমন নৃশংস ঘটনায় তারা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা মোনসের আলী ব্যাপারী বলেন, খালের পাড়ে রক্ত ও জুতার চিহ্ন দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে খালে নেমে কচুরিপানার নিচে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এলাকায় অত্যন্ত বিরল। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
মন্তব্য