খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৫০ পিএম

খুলনার নিউ মার্কেটের পাশে অবস্থিত বায়তুন নূর শপিং সেন্টারে সোমবার গভীর রাতের দিকে একটি ভয়াবহ আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনটি রাত ১১টার দিকে ‘গোধুলি’ মোবাইল শপ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত সংলগ্ন দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
দোকানিদের এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে প্রথমবার ধোঁয়া লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তা কর্মীদের অবহিত করার পর দোকানে প্রবেশ করলে আগুন দৃশ্যমান ছিল। চারটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। দোকানের জটিল বৈদ্যুতিক তারের নেটওয়ার্ক এবং এয়ার কন্ডিশনারের বিস্ফোরণ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল মালেক জানান, ছয়টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রাত ১:১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটই আগুনের মূল সূত্র হতে পারে। সৌভাগ্যবশত, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
দোকানিরা শপিং সেন্টারের অবকাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরেছেন। তারা জানিয়েছেন, অগোছালো এবং খোলা বৈদ্যুতিক তারের উপস্থিতি, পাশাপাশি এয়ার কন্ডিশনারের জ্বালানিসদৃশ উপাদান আগুনের দ্রুত বিস্তার ঘটিয়েছে।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরূপঃ
| দোকানের নাম | ক্ষয়ক্ষতির ধরন | আনুমানিক ক্ষতি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| গোধুলি মোবাইল | সম্পূর্ণ ধ্বংস | মারাত্মক | আগুনের উৎস |
| নেক্সট জেনারেশন গ্যাজেট | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | মধ্যম | ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার |
| স্টাইল স্মার্টফোন | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | মধ্যম | বৈদ্যুতিক তার আগুন ছড়িয়ে দেয় |
| অন্যান্য ৭–৯টি দোকান | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | ছোট থেকে মধ্যম | সরাসরি আগুনের সংস্পর্শে |
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা emphasise করেছেন যে, শপিং সেন্টারের অগোছালো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং অগ্নি সংবেদনশীল উপাদান ছিল আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন শপিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনঃমূল্যায়ন করতে এবং আগুন প্রতিরোধের প্রোটোকল শক্তিশালী করতে। খুলনার ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা খুলনা শহরের সকল ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে যে, নিরাপত্তা এবং সঠিক অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা ছাড়া বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সও ঝুঁকিপূর্ণ।
মন্তব্য