খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৪ পিএম
বগুড়ার কম্পিউটার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাইবারটেকের মালিক মোহাম্মদ আলী জাহিদ (৪৫)কে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বগুড়া শহরের কামারগাড়ী এলাকার মৃত অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারের ছেলে। গত ৬ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকার টেকনিক্যাল মোড় থেকে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত রোববার ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট আদালত আসামি জাহিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিএমপির কোতয়ালি থানার এসআই সজিব আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, জাহিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বগুড়ার বিধবা নারী মোছা: মোস্তাফিয়া ফেরদৌসি। বাদিনী তিন সন্তানের জননী। ২০১৮ সালে তার স্বামী ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীকালে বগুড়া শহরে একটি কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানে কোর্স করার সময় বাদিনী মোহাম্মদ আলী জাহিদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৯ সালের ৫ মে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিবাহের পর থেকে জাহিদ বাদিনীকে তার ব্যবসার ঋণ হিসেবে টাকা বিনিয়োগ করতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জাহিদ ও অন্যান্য আসামির মাধ্যমে মোট ৫০ লাখ টাকা বাদিনীর কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নেওয়া হয়। বাদিনী বারবার টাকা ফেরত চাইলেও জাহিদসহ অন্যান্য আসামিরা বিভিন্ন তারিখ ও সময় উল্লেখ করে পুনরায় বিলম্ব ঘটাতেন।
পরে বাদিনী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে মামলার ভিত্তিতে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, আসামি বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল বলে তার ধরা পড়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধৃত আসামি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো যে, সম্পত্তি বা ব্যবসার নামে ব্যক্তিগত জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার শোষণ করলে আইন সংরক্ষকরা তা প্রশ্রয় দেবেন না। মামলার তদন্তে বাদিনীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। তবে ঘটনার গভীরে গেলে দেখা যায়, দীর্ঘকাল ধরে অর্থের লেনদেনে জটিলতা এবং অনৈতিক প্রভাব মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক মহল মনে করছে, ব্যবসায়িক পরিচয় ব্যবহার করে অন্যের অর্থের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নজরদারি করছে এবং দ্রুত ন্যায্য সমাধানের চেষ্টা করছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ড কার্যক্রম স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে পরিবেশিত হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, আইন প্রয়োগকারীরা অর্থনৈতিক অপরাধ ও প্রতারণার ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য