কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের পূর্ব বলরামপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রমজান আলী (৪০) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে নিজ বাড়ির ঘরের আড়ার সঙ্গে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রমজান আলী ওই গ্রামের আনসার মিয়ার ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার তার স্ত্রীর সঙ্গে তীব্র পারিবারিক বিরোধের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রমজান আলী তার স্ত্রীকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তার স্ত্রী আহত হন এবং প্রথমে মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার উন্নতি হলে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঘটনার পর থেকে রমজান আলী গভীর মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। তাদের ধারণা, স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, সম্ভাব্য আইনগত জটিলতা এবং সামাজিক চাপ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই মানসিক অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা জানান, সকালে খবর পেয়ে তারা দ্রুত পূর্ব বলরামপুর গ্রামে পৌঁছান। ঘরের ভেতরে আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে তারা প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। এটি সত্যিই আত্মহত্যা কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রমজান আলী সাধারণ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের বিরোধ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস ছিল না। তবে সাম্প্রতিক পারিবারিক দ্বন্দ্ব তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় বলে অনেকে মনে করছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সমাজের অনেকেই বলছেন, পারিবারিক কলহ সময়মতো সমাধান না হলে তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মানসিক চাপ ও সামাজিক ভয় অনেক সময় মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পারিবারিক পরামর্শ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সময়/পর্যায় | ঘটনার বিবরণ |
|---|---|
| গত শুক্রবার | স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক বিরোধ ও উত্তেজনা |
| ঘটনার পরপর | স্ত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি |
| চিকিৎসা শেষে | স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান |
| পরবর্তী দিনগুলো | রমজান আলী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন |
| মঙ্গলবার ভোর | নিজ ঘরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার |
| পরবর্তীতে | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ |
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীরা এখন ঘটনাটির সঠিক কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হবে।
