খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ১:২৯ এএম

পাবনার সুজানগর উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক নারী শিক্ষকসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ভাঁয়না ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া নারী শিক্ষকের নাম আফরোজা শিখা। তিনি মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তাকে এবং অন্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে এলাকায় জনসমাগমের সুযোগে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সুজানগরের মথুরাপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এরপর একপর্যায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, হামলা এবং নাশকতার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে অভিযান চালায়। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে এক নারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলার সময় সংঘটিত ভাঙচুর, আহত হওয়ার ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট আলামত যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য