খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ২:২২ এএম

জর্ডানের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সংঘটিত হামলার পর থেকেই নিখোঁজ সেনাসদস্যের সন্ধানে অনুসন্ধান অভিযান চলছে। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, হামলার সময় আহত হওয়া চার মার্কিন সেনাকে দ্রুত উদ্ধার করে জর্ডানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এ ছাড়া যেসব সেনাসদস্য সামান্য আহত হয়েছিলেন, তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হয়নি। সেন্টকম জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নিকটাত্মীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য আরেকটি বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিভিন্ন পাল্টা হামলা ও দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) দুটি সামরিক বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় সেনাসদস্য প্রাণ হারান। পরে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন কমান্ড পোস্টে ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয় সেনা নিহত হন। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটের মৃত্যু হয়।
শুধু প্রাণহানিই নয়, চলমান সংঘাতের ফলে আহতের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানের পর থেকে বিভিন্ন হামলা ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন, আবার কেউ চিকিৎসা শেষে দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জর্ডানে সর্বশেষ এই হামলা প্রতিহত করার সময় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ সেনাসদস্যকে উদ্ধারের চেষ্টা এবং হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য