খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং ইটভাটার সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এই প্রতিবাদের জেরে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পরিবেশ রক্ষাকারী এবং প্রতিবাদী যুবকদের ‘চাঁদাবাজি’ মামলা দিয়ে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯ নম্বর ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ এলাকার উত্তরের একটি পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার জন্য অবৈধভাবে কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এটি পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মালিকানাধীন মীর গ্রুপের তত্ত্বাবধানে থাকা ম্যানেজার তাজুল ইসলামের নির্দেশে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা এবং মাটি উত্তোলনের ফলে এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাহাড় কাটার কারণে যে কোনো সময় ভূমিধস বা ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।
একাধিকবার প্রতিবাদ সত্ত্বেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ প্রতিবাদের জেরে ইটভাটার পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫-১৬ জন যুবকের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজি’ মামলা দায়ের করেছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কফিল ও ওয়াসিমকে আটক করে, যাদের রোববার রাতে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রায় দেড় বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করেছিল এবং একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এছাড়া বাড়বকুণ্ড এলাকায় মাটি উত্তোলনের দায়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ গত শনিবার তিনটি মাটিবোঝাই ট্রাক আটক করেছে।
| তারিখ | ঘটনা | পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| ২০২৪ সালের অক্টোবর | পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান | যন্ত্রপাতি জব্দ ও একজনকে কারাদণ্ড |
| ২০২৬ সালের মার্চ | পাহাড় কাটার প্রতিবাদ | কফিল ও ওয়াসিমকে আটক |
| ২০২৬ সালের মার্চ | মাটি উত্তোলন | ৩টি ট্রাক আটক |
আটক কফিলের স্ত্রী জেমু আক্তার বলেন, “আমার স্বামী পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করেছিলেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।”
ঈদের কয়েকদিন আগে সাংবাদিকরা ইটভাটায় সরজমিনে গেলে ম্যানেজার তাজুল ইসলাম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং মামলা করার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আশরাফ জানিয়েছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই কিছু যন্ত্রপাতি জব্দ করেছি এবং একজনকে জেল দিয়েছি। বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।”
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পাহাড় কাটার কার্যক্রম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ ও জীবননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হবে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
সীতাকুণ্ডে পরিবেশ রক্ষা এবং শিল্প সম্প্রসারণের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং স্থানীয় জনগণ নিরাপদ জীবন ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে সজাগ রয়েছে।
মন্তব্য