খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৩:৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনযোগে রাজধানী ঢাকায় ইয়াবা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তার শরীরের গোপন স্থান থেকে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া নারীর নাম সাবিত্রী রানী ব্রহ্ম (৫০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বণিকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নির্মল ব্রহ্মের স্ত্রী।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (৬ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টার দিকে আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নির্ভরযোগ্য একটি তথ্য আসে যে, এক নারী যাত্রী শরীরের গোপন স্থানে ইয়াবা বহন করে রাজধানীতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই তথ্য যাচাই করে স্টেশনে আগে থেকেই অবস্থান নেয় রেলওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল।
ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছানোর পর সন্দেহভাজন নারীকে শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে শরীরের গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা একটি ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটটি খুলে তাতে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই মাদক জব্দ করা হয় এবং ওই নারীকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এসআই মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ইয়াবাসহ ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেলপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদক পাচারকারীরা প্রায়ই নজরদারি এড়াতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে। কখনও লাগেজের গোপন অংশ, কখনও পোশাকের ভাঁজ, আবার কখনও শরীরের গোপন স্থানে মাদক লুকিয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলে রেলস্টেশন ও ট্রেনে পরিচালিত অভিযানে শুধু লাগেজ নয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাফেরা, আচরণ এবং গোয়েন্দা তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে তল্লাশির সময় আইনি বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় এবং নারী পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে তল্লাশি প্রক্রিয়া আইনসম্মত ও শালীনভাবে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন রেলপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে সন্দেহভাজন যাত্রী ও লাগেজ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর ব্যবহার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে রেলপথে মাদক পাচারের প্রবণতা আরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদেরও সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে রেলপথকে নিরাপদ রাখা এবং মাদক পরিবহন প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ আরও কার্যকর হয়।
মন্তব্য