খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ১:১১ এএম

সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১টার দিকে ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর এলাকায় অভিযান চালায়। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে আতিয়ার দর্জি নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিচিত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছিলেন। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের প্রভাবশালী পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এভাবে তিনি নানা ধরনের তদবির, প্রভাব খাটানো এবং অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলো যাচাই করা হয়। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, যাদের পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছিল, তাদের সঙ্গে ওই নম্বর বা অ্যাকাউন্টগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস, সাতটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি এটিএম কার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা আলামতগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করে প্রতারণার পরিধি, সম্ভাব্য সহযোগী এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তা বা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি করা শুধু প্রতারণাই নয়, এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হচ্ছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য