কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় রাতের আঁধারে মো. জুবায়েদ (২৫) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৯ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার কোদালিয়া-হোসেনপুর আঞ্চলিক পাকা সড়কের শৈলজানি এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত মো. জুবায়েদ পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপলাশ গ্রামের বাসিন্দা মো. আলতাব উদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশাগত জীবনে একজন পোলট্রি খামারি বা হাঁস-মুরগির খামার ব্যবসায়ী ছিলেন এবং নিজের খামার পরিচালনার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মো. জুবায়েদ ব্যক্তিগত কাজের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কোদালিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে নিজের বাড়ি থেকে বের হন। তিনি কোদালিয়া-হোসেনপুর পাকা সড়ক ধরে শৈলজানি এলাকা অতিক্রম করার সময় পূর্ব ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাঁর গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রশস্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই মো. জুবায়েদের মৃত্যু হয়।
রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার ও পুলিশি তৎপরতা
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর হামলাকারী দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী রাস্তার ওপর একটি রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। জুবায়েদের নিথর দেহটি ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন পাকুন্দিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পাওয়ার পর পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শৈলজানি এলাকার ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি ও আইনি পদক্ষেপ
পুলিশি কার্যক্রমের মূল তথ্য:
মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল: পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য: পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মো. জুবায়েদ নামের ওই যুবককে কে বা কারা এবং ঠিক কী কারণে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের সনাক্ত করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জুবায়েদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গভীর আলোচনা ও প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া: পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে, নিহতের মরদেহের আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করার জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং আঘাতের ধরণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এলাকাবাসীর দাবি ও শেষ পরিস্থিতি
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চরপলাশ গ্রাম এবং শৈলজানি এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি জনবহুল পাকা সড়কের ওপর রাতের প্রথম প্রহরে একজন পোলট্রি খামারিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পেছনে কোনো পূর্ব শত্রুতা, পারিবারিক কলহ নাকি ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ দায়ী ছিল—সেসব নানামুখী দিক বিবেচনায় রেখে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অতি দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
