,

হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮২০

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮২০ জনে পৌঁছেছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৭২৫ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর বড় অংশই উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে ঘটেছে, যাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বা ফলাফল পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ১ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এই সময়ে দেশের অন্য বিভাগগুলো থেকে হামের কারণে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি।

এদিকে সংক্রমণও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১৭০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৪২ জনে।

শুধু নিশ্চিত রোগীই নয়, উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে আরও ৯৯০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে চলতি বছরে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩ জনে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা গ্রহণ করেনি বা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হামের সাধারণ উপসর্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবরের মতোই শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। একই সঙ্গে জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের সংস্পর্শ থেকে যতটা সম্ভব আলাদা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ না করে।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।