জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৯ পিএম

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পসংলগ্ন জঙ্গল থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে স্থানীয় কিশোররা ফুটবল খেলতে গিয়ে বল আনতে জঙ্গলে প্রবেশ করলে মরদেহটি দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বয়স, ঠিকানা কিংবা অন্য কোনো পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় টং দোকানি আবু সাঈদ মিয়া জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কিশোররা ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ভেতরে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি পাশের জঙ্গলে চলে যায়। বলটি আনতে কয়েকজন কিশোর জঙ্গলে প্রবেশ করলে সেখানে এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং বিষয়টি দ্রুত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আশপাশের এলাকা ঘিরে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো হয় এবং ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের জঙ্গল থেকে সকালে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও হত্যার পর দুর্বৃত্তরা মরদেহটি নির্জন ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। আশপাশের থানাগুলোতে সম্প্রতি কোনো নারী নিখোঁজ হওয়ার তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য