জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৫:৭ পিএম

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সবজি ও কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারণে সপ্তাহের বাজার করতে গিয়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে পারছেন না। সীমিত আয়ের সঙ্গে বাজারদরের এই ব্যবধান সংসারের ব্যয়ভার সামলানোকে দিন দিন আরও কঠিন করে তুলছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। বিক্রেতাদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, চালের বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও উন্নত মানের পোলাওয়ের চালের দাম অনেকটাই বেশি। বাজারে সাধারণ মানের চালের দামে তেমন পরিবর্তন না এলেও পোলাওয়ের চাল কেজিপ্রতি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহের বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সোহেল বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সব পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাজেটের মধ্যে থাকতে বাধ্য হয়ে অনেক পণ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সবজি ও কাঁচা মরিচের বর্তমান দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক ক্রেতা। তাঁদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকায় মাসিক বাজেট নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। আগে যে পরিমাণ অর্থে সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন একই অর্থে তুলনামূলক কম পণ্য কিনে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। ফলে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে স্বল্প সময়ে দামে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক চাপের এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পরিবারকে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, যাতে নিত্যদিনের বাজার আবারও সাধ্যের মধ্যে ফিরে আসে।
মন্তব্য