খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৮ এএম

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর বাজারে বন্য শিয়ালের মাংসকে খাসির মাংস হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার এক দুঃসাহসিক ও ন্যক্কারজনক জালিয়াতি ধরা পড়েছে। অভিযুক্ত কসাই আশরাফুল ইসলাম সুকৌশলে বন্যপ্রাণী শিকার করে তা জনসমক্ষে বিক্রির আয়োজন করেছিলেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে।
ঘটনার মূলে রয়েছেন হরিপুর আফজালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম, যিনি স্থানীয়ভাবে কসাই হিসেবে পরিচিত এবং ব্যক্তিগত জীবনে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আশরাফুল তার বাড়ির আশেপাশে বন্যপ্রাণী ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। মঙ্গলবার সেই ফাঁদে একটি শিয়াল আটকা পড়লে তিনি সেটিকে গোপনে জবাই করে মাংস আলাদা করেন। পরবর্তীতে বিকেলে হরিপুর বাজারে এসে তিনি সেই মাংসকে ‘টাটকা খাসির মাংস’ বলে প্রচার করে বিক্রির চেষ্টা চালান।
কিন্তু মাংসের অস্বাভাবিক গাঢ় লাল বর্ণ দেখে সাধারণ ক্রেতাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। সাধারণত খাসির মাংসের যে পরিচিত বৈশিষ্ট্য থাকে, তার সাথে এই মাংসের দৃশ্যত কোনো মিল ছিল না। উপস্থিত লোকজন তাকে ঘিরে ধরে জেরা শুরু করলে একপর্যায়ে তিনি সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন। স্বীকারোক্তির পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সুযোগ বুঝে ভিড়ের মধ্য দিয়ে গা ঢাকা দেন এই প্রতারক কসাই।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উদ্ধারকৃত মাংসটি প্রকৃতপক্ষে শিয়ালের কি না, তা যাচাই করার পর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তা মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়।
ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ নিচে টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| অভিযুক্তের নাম | আশরাফুল ইসলাম (কসাই) |
| পিতার পরিচয় | মৃত আশু কসাই |
| প্রতারণার ধরণ | খাসি বলে শিয়ালের মাংস বিপণন |
| শনাক্তের মাধ্যম | মাংসের অস্বাভাবিক রং ও স্থানীয়দের বিচক্ষণতা |
| বর্তমান অবস্থা | কসাই আশরাফুল পলাতক; আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন |
| পরিবেশগত প্রভাব | বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন |
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, শিয়ালের মাংস কোনোভাবেই মানুষের খাদ্যের উপযোগী নয়। এতে জলাতঙ্ক বা রেবিজের মতো মারাত্মক ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে, যা মানুষের জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে। চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তার বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য ও প্রতারণা আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় বাজার কমিটি ও প্রশাসন থেকে মাংস ক্রেতাদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য