খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই মার্চ ২০২৬, ৩:২০ পিএম

বগুড়ার সান্তাহারে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও পুনঃস্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে।
Table of Contents
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সান্তাহারের তিলকপুর এলাকায় ট্রেন চলাচলের সময় নৈমিত্তিক কোনো সিগন্যাল বা ট্র্যাক সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বগিগুলোর একাংশ ট্র্যাকের অবস্থা অনুকূলে না থাকার কারণে লাইনচ্যুত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ফলে কোনো যাত্রীর মৃত্যু হয়নি, তবে আহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হয়নি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার ও পুনঃস্থাপন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ জরুরি দল ট্র্যাক মেরামত, লাইনচ্যুত বগি সরানো এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার তারিখ | ১৮ মার্চ ২০২৬ |
| দুর্ঘটনার সময় | দুপুর ২:৩০ মিনিট |
| দুর্ঘটনার স্থান | তিলকপুর, সান্তাহার, বগুড়া |
| ট্রেনের নাম | নীলসাগর এক্সপ্রেস |
| লাইনচ্যুত বগির সংখ্যা | ৭টি |
| মৃতের সংখ্যা | ০ |
| আহতের সংখ্যা | অজানা (প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি) |
| যোগাযোগের অবস্থা | ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ বন্ধ |
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জন্য জরুরি সতর্কবাণী জারি করেছে। যাত্রীরা বিকল্প রুট বা বাস ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন। এছাড়া পুনঃস্থাপনের কাজ চলাকালীন কোনো ট্রেনকে বিপরীত রুটে চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী নয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তারা যাত্রীদের ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলমান বৃষ্টি এবং টানা গরম আবহাওয়াও ট্র্যাকের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাটির স্থিতিশীলতা এবং বগি লাইনচ্যুতি বিষয়ক বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হবে। ট্রেন চলাচল ও ট্র্যাক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দুর্ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রম রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ট্রেন চলাচল দ্রুত পুনরায় চালু করার জন্য রেলওয়ে সকল সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এই প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিলকপুর এলাকায় ট্র্যাক মেরামত ও বগি উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে এবং রাতের মধ্যেই ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য