জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৫:২৫ পিএম

বগুড়ার তিনটি উপজেলায় পৃথক পুলিশি অভিযানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও কৃষক লীগের ছয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা, বিস্ফোরকদ্রব্য, হামলা এবং সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৃথক অভিযানে নিজ নিজ এলাকা ও বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুইজন, যুবলীগের দুইজন এবং কৃষক লীগের দুইজন নেতা রয়েছেন। তিনটি থানার পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কানাইকান্দর এলাকা থেকে শাহবন্দেগী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন (৫৫)কে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেরপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল হান্নান। একই মামলার তদন্ত চলাকালে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তোফাজ্জল হোসেনকেও আসামি করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন জানান, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের ছোটবালুয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য মনিরুজ্জামান ঠান্ডুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মৃত আবুল সরকারের ছেলে। পুলিশ বলছে, ককটেল বিস্ফোরণ এবং বিএনপির এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি তিনি। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, নাশকতার অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আরিফুর রহমান দুলাল (৫২), ধুনট পৌর যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমন (৩৬) এবং চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল তালুকদার (৪২)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় নাশকতা, বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবহার, হামলা এবং সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা এবং চলমান মামলার তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানাগুলো অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য