নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের একটি তল্লাশি চৌকিতে (চেকপোস্ট) অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আটটি গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিনসহ আবদুর রহমান ওরফে রাহিম (২১) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অংশ হিসেবে পরিচালিত নিয়মিত তল্লাশির সময় এই অস্ত্রধারী যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। অভিযানকালে আটককৃত যুবকের ব্যবহৃত একটি নিবন্ধনহীন (রেজিস্ট্রেশনবিহীন) মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করে।
আটক যুবকের পরিচয় ও অভিযানের বিবরণ
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হওয়া আবদুর রহমান ওরফে রাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের সন্তান। আটকের পরপরই তাকে পুলিশি পাহারায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস এবং এগুলো কী উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশ তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
পুলিশের দাপ্তরিক সূত্র থেকে জানা যায়, জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সাথে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট, যার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কে পুলিশ একটি তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুতগতিতে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় রাহিমকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। গাড়ি থামানোর পর তার শারীরিক আচরণ এবং কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাকে তল্লাশি করেন। তল্লাশিকালে ওই যুবকের কোমরে গুঁজে রাখা অবস্থায় তিনটি বিদেশি পিস্তল, আটটি গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার সাথে থাকা নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটিও আইনগতভাবে জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
political পরিচয় নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি দাবি
অস্ত্রসহ আবদুর রহমান ওরফে রাহিম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশ নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে দাবি করেন যে, অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়া আবদুর রহমান ওরফে রাহিম স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী।
বিএনপি নেতার এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বিএনপির দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পুলিশের হাতে অস্ত্রসহ আটক হওয়া ওই ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ধরণের সাংগঠনিক বা সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় অনেক মানুষই প্রার্থীর পাশে এসে দাঁড়ায় বা ছবি তোলে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সে দলীয় কর্মী হয়ে গেছে।
জামায়াত নেতা আরও দাবি করেন যে, তার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের পর থেকে আটক হওয়া রাহিম স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী সম্রাটের সঙ্গে নিয়মিত চলাফেরা করতেন। এমনকি পুলিশ কর্তৃক জব্দ করা মোটরসাইকেলটিও ছাত্রদল কর্মী সম্রাটের বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া
অভিযান এবং আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, মোটরসাইকেল আরোহী যুবকের গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে চেকপোস্টে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়েছিল। সেই তল্লাশিতে তার কাছ থেকে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, আটটি তাজা গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, বেগমগঞ্জ থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আবদুর রহমান ওরফে রাহিমকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামীকাল নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
