বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের পর অবশেষে দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেন বলে আশাবাদী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকেই সাকিব বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি। এর আগে তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে কিছু গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এসব আইনি জটিলতার কারণেই তিনি বর্তমানে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
সম্প্রতি ভারতের একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, দেশে ফেরা কেবল সময়ের ব্যাপার হলেও নির্দিষ্ট সময় এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ফেরা তার জন্য আবেগের বিষয় এবং তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে চান না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান হবে, যাতে তিনি স্বাভাবিকভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেন।
সাকিব আল হাসানের বর্তমান পরিস্থিতি ও তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বর্তমান অবস্থান | যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান |
| সর্বশেষ দেশে আগমন | ২০২৪ সালের অক্টোবর (আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়) |
| প্রত্যাশিত ফেরার সময় | ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ |
| বাধার কারণ | একাধিক মামলা ও আইনি জটিলতা |
| বর্তমান অবস্থান | দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী |
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে সময় বোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁর প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি সিরিজের মাধ্যমে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাকিব অভিযোগ করেছেন, আগের ক্রিকেট প্রশাসন তাকে দলে ফেরানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে ঘাটতি ছিল। তাঁর মতে, ইচ্ছা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাটাই মূল বিষয়।
বর্তমান ক্রিকেট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য সাকিবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি হলে সাকিবসহ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার পথ উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি খেলাধুলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের হয়ে সাকিব সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের বিপক্ষে। এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের হয়ে বিদায়ী ম্যাচ খেলার ইচ্ছাও প্রকাশ করে আসছেন, যা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে সাকিবের প্রত্যাবর্তন এখন নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন, কবে আবার তারা মাঠে দেখতে পাবেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই অলরাউন্ডারকে।
