খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় এক কৃষককে নির্মমভাবে খুন করে ঘরের পাশে মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামে নিহতের নিজ বাড়ির রান্নাঘর সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে মুলাদী থানা পুলিশ।
ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের শিকার কৃষকের নাম হারুন হাওলাদার (৫৯)। তিনি চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। এই ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে রেখে নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন ওই নারী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ নিখোঁজ হন হারুন হাওলাদার। এরপর থেকেই তার স্ত্রী সেলিনা বেগম দাবি করে আসছিলেন যে, গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু লোক তার স্বামীর হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে এবং একটি ট্রলারে করে নদীর দিক দিয়ে পালিয়ে গেছে। নিজের এই সাজানো গল্পকে সত্য প্রমাণ করতে সেলিনা বেগম কোনো সময় নষ্ট করেননি। তিনি তার ছেলে জাফর হাওলাদারকে দিয়ে গত শনিবার রাতে মুলাদী থানায় একটি লিখিত অপহরণ মামলা দায়ের করান। এই চতুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের সাজানো ওই অপহরণ মামলায় সেলিনা বেগম নিজেই প্রধান সাক্ষী সেজেছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হারুন হাওলাদারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে ওই দিন সকালেই মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নাসহ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ রহস্যের তদন্ত শুরু করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল ব্যাপারী এই বিষয়ে জানান, শনিবার ভোরে সেলিনা বেগম নিজেই তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে চারদিকে কান্নাকাটি ও শোরগোল তোলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। তবে প্রথম থেকেই সেলিনা বেগমের কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে।
বিশেষ করে, শুক্রবার রাতে স্বামী নিখোঁজ হওয়ার ঠিক পরমুহূর্তেই তিনি ঘরের মেঝে হঠাৎ নতুন কাদামাটি দিয়ে লেপে দিয়েছিলেন, যা সাধারণ প্রতিবেশীদের নজরে আসে এবং সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। একজন সাধারণ নিরীহ কৃষক এভাবে হঠাৎ হাওয়া হয়ে যাওয়ায় সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে ওই বাড়ির আশপাশে নিজস্ব উদ্যোগে খোঁজখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা হারুনের রান্নাঘরের পাশে নতুন খনন করা আলগা মাটি দেখতে পান এবং খুব ভালো করে খেয়াল করে সেখানে মানুষের আঙুল সদৃশ কিছু একটা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। এতে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে এবং মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ কৃষক হারুন হাওলাদারের গলিত মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের স্বজনরা ঘাতক স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য