বাংলাদেশে নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থার প্রসারে বেসরকারি ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা ‘নেক্সাস পে’ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। নীরবে পরিচালিত এই মোবাইলভিত্তিক লেনদেন প্ল্যাটফর্মটি এখন প্রায় এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে গেছে। ব্যাংকের নিজস্ব গ্রাহক ছাড়াও রকেট সেবা ব্যবহারকারী এবং অন্যান্য ব্যাংকের গ্রাহকেরাও এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারছেন। ফলে এটি দেশের অন্যতম সর্বজনীন ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
ব্যাংকটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নেক্সাস পে ব্যবহার করে গত বছরে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোর তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ব্যবহারকারীর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যবহারকারী ও লেনদেনের চিত্র
| বছর | মোট ব্যবহারকারী | ডাচ্–বাংলা ব্যাংক গ্রাহক | রকেট ব্যবহারকারী | অন্যান্য ব্যাংকের গ্রাহক | মোট লেনদেন (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|---|---|
| ২০২৩ | ৬২ লাখ ৮১ হাজার | ৫৭ লাখ ২৩ হাজার | ৪ লাখ ৫৯ হাজার | ৯৯ হাজার | ৫৮,৫১৫ |
| ২০২৫ | ৯০ লাখ ৪৩ হাজার | ৮০ লাখ ৮৪ হাজার | ৮ লাখ ১৭ হাজার | ১ লাখ ৪১ হাজার | ২,৩৭,৫৭২ |
| ২০২৬ (প্রথম তিন মাস) | ৯৪ লাখ ৫০ হাজার | — | — | — | ৬২,৭১১ |
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে লেনদেন প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে।
ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশামুল হক খান এক সাক্ষাৎকারে জানান, শুরুতে সীমিত ফিচার নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে অ্যাপে নতুন নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মাসে বিশ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে। তাঁর মতে, লক্ষ্য হলো নেক্সাস পেকে এমন একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় পরিণত করা, যেখানে অধিকাংশ ব্যাংকিং কার্যক্রম শাখায় না গিয়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবান্তর। ২০২৫ সালে এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর, কিউআর কোডভিত্তিক কেনাকাটা, মোবাইল রিচার্জ এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধান লেনদেনের খাত (২০২৫)
| লেনদেনের ধরন | পরিমাণ (কোটি টাকা) |
|---|---|
| হিসাব থেকে হিসাবান্তর | ১,৪৫,৪৯৫ |
| অন্যান্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর | ৮৬,৮৭৪ |
| ইউটিলিটি বিল পরিশোধ | ৪,১৯১ |
| কিউআর কোডভিত্তিক কেনাকাটা | ৮১৬ |
| মোবাইল রিচার্জ | ১৯১ |
দেশজুড়ে প্রায় এক লাখ আশি হাজার দোকানে কিউআর কোডের মাধ্যমে নেক্সাস পে ব্যবহার করা যাচ্ছে। লেনদেন সংখ্যাও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে—২০২৩ সালে ৪ কোটি বার, ২০২৫ সালে ৮ কোটি বার এবং ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ২ কোটি ২৬ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
নেক্সাস পে ব্যবহার শুরু করতে ব্যবহারকারীকে প্রথমে অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর মোবাইল নম্বর যাচাই, পিন সেট এবং কার্ড বা হিসাব যুক্ত করার মাধ্যমে সেবা ব্যবহার শুরু করা যায়। অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যালান্স দেখা, অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ এবং কিউআর কোডে পেমেন্ট করা সম্ভব।
