খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই মে ২০২৬, ১২:৩ পিএম

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে বল হাতে এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন বতসোয়ানার পেসার নাবিল মাস্টার। গতকাল বতসোয়ানার রাজধানী গ্যাবোরনে অনুষ্ঠিত আইসিসি পুরুষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আফ্রিকা উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে মালির বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন তিনি। মাত্র ২ রানে ৬ উইকেট শিকারের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছেন।
Table of Contents
মালির ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বোলিং আক্রমণে আসেন নাবিল মাস্টার। নিজের প্রথম ওভারটি তিনি মেডেন দিয়ে শুরু করেন। অষ্টম ওভারে যখন তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বল হাতে নেন, তখন মালির সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৮ রান। সেই ওভারের প্রথম দুই বলে দুই উইকেট শিকার করে তিনি মালির ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। অষ্টম ওভারের শেষ বলে তিনি আরও একটি উইকেট লাভ করেন। এরপর দশম ওভারে পুনরায় ফিরে এসে প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন তিনি। একই ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে উইকেট শিকারের মাধ্যমে মালির ইনিংসের ইতি টানেন নাবিল।
তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল নিম্নরূপ:
ওভার: ২.৪
মেডেন: ১
রান: ২
উইকেট: ৬
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি সিঙ্গাপুরের লেগ স্পিনার হার্শা ভারদ্বাজের রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ভারদ্বাজ। নাবিল মাস্টার আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ন্যূনতম ৬ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান দেওয়ার বিশ্ব রেকর্ডের মালিক এখন।
নাবিল মাস্টারের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে মালির ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। মাত্র ৯.৪ ওভারে ২৫ রানে অলআউট হয়ে যায় মালি। জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বতসোয়ানা কোনো উইকেট না হারিয়েই ২.২ ওভারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় এবং ১০ উইকেটের বড় জয় নিশ্চিত করে।
একই দিনে গ্যাবোরনের মাঠে অপর একটি ম্যাচে রুয়ান্ডা ও আইভরি কোস্ট মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে রুয়ান্ডার ওপেনার হামজা খান এক দানবীয় ইনিংস খেলেন। মাত্র ৬৫ বলে ১৬৪ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। এটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। হামজা খান এই পথে স্পেনের মোহাম্মদ ইহসানের (১৬০ রান) রেকর্ডটি অতিক্রম করেন। এছাড়া টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোকে বিবেচনায় নিলে হামজার এই ইনিংসটি আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, এই তালিকায় ১৭২ রান নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চ।
রুয়ান্ডা নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৮৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আইভরি কোস্ট ১৫.২ ওভারে মাত্র ১৭ রানে অলআউট হয়ে যায়, ফলে রুয়ান্ডা ২৭১ রানের বিশাল জয় পায়।
নাবিল মাস্টারের এই বোলিং ফিগারটি সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ইতিহাসের সেরা বোলিং তালিকার চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। নিচে সেরা চার বোলিং পারফরম্যান্সের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| বোলারের নাম | দেশ | প্রতিপক্ষ | বোলিং ফিগার (উইকেট/রান) | সাল |
| স্যায়াজরুল ইদ্রাস | মালয়েশিয়া | চীন | ৭/৮ | ২০২৩ |
| পিটার আহো | নাইজেরিয়া | সিয়েরা লিওন | ৬/৫ | ২০২১ |
| দীপক চাহার | ভারত | বাংলাদেশ | ৬/৭ | ২০১৯ |
| নাবিল মাস্টার | বতসোয়ানা | মালি | ৬/২ | ২০২৪ |
নাবিল মাস্টারের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটেছিল ২০১৯ সালে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি বতসোয়ানার হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে একটি উইকেট পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বিরতির পর গত শনিবার মাঠে ফিরে তিনি ২ উইকেট শিকার করেন। তবে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে এসে তিনি যা অর্জন করলেন, তা বতসোয়ানার ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনো কোনো বোলার করতে পারেননি। তিনি বতসোয়ানার প্রথম বোলার হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে ৬ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
নাবিলের এই অনন্য কীর্তি এবং হামজা খানের রেকর্ড ভাঙা ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব ক্রিকেটের নতুন রেকর্ড ও উত্তেজনার সাক্ষী হলো।
মন্তব্য