খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুন ২০২৬, ৭:৩ পিএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক অভিযানে এক লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তসংলগ্ন কাজু বাদাম বাগান এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে ১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৪৭/৩-এস এর কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কৌশলগত অবস্থান নেয় তারা, যাতে সন্দেহভাজন যেকোনো অনুপ্রবেশ বা পাচার রোধ করা যায়।
অভিযানের সময় মিয়ানমার দিক থেকে কয়েকজন চোরাকারবারি ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ইয়াবার কার্টন ফেলে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়। পরে এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১০টি কার্টনে মোট এক লাখ ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
১১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার চালানটি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত মাদক চোরাচালানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পথ ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করে থাকে। এ কারণে বিজিবি সেখানে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের বড় চালান জব্দ মাদক চক্রের সক্রিয়তা নির্দেশ করে। তবে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি থাকলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মন্তব্য