বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্য সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জন্য স্বর্ণালঙ্কার ক্রয়কে যথেষ্ট ব্যয়বহুল করে তুলেছে। বর্তমান দিনে এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ২৫০,০০০ টাকা পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থালী এবং সামাজিক উপহার হিসেবে স্বর্ণালঙ্কার বা বার আনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রবাস থেকে দেশে ফেরত আসা পর্যটকরা প্রায়শই পরিবারের জন্য স্বর্ণ নিয়ে আসেন। তবে, সঠিক কাস্টমস নিয়ম এবং আমদানি সীমা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন স্বর্ণের দাম এত দ্রুত বেড়েছে।
বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বর্তমান আর্থিক বছরের জন্য স্বর্ণ আমদানি সংক্রান্ত নিয়মগুলো পুনর্বিবেচনা করেছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, duty-free সুবিধা এবং baggage-এর মাধ্যমে স্বর্ণ আনার প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, ফেরত আসা পর্যটকরা সহজ এবং বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারেন।
পর্যটকদের জন্য স্বর্ণ আমদানি সীমা
| স্বর্ণের ধরন | শুল্কের ধরন | সর্বোচ্চ পরিমাণ | অতিরিক্ত পরিমাণের নোট |
|---|---|---|---|
| স্বর্ণালঙ্কার | শুল্কমুক্ত | সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম (প্রায় ৮ ভরি ১০ আনা) | সর্বাধিক ১২টি পিস অনুমোদিত |
| স্বর্ণবার | শুল্ক প্রযোজ্য | সর্বোচ্চ ১০ তোলা (প্রতি তোলা ৫,০০০ টাকা শুল্ক) | অতিরিক্ত শুল্ক প্রদান করতে হবে |
নতুন বিধি অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যটক বছরে একবার সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার duty-free আনা যাবে। স্বর্ণবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ তোলা আনা যাবে, যেখানে প্রতি তোলা ৫,০০০ টাকা শুল্ক দিতে হবে।
স্বর্ণ আমদানির প্রক্রিয়া
ফেরত আসা পর্যটকরা বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ঘোষণা ফর্ম পূরণ করতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকে:
সম্পূর্ণ নাম ও পাসপোর্ট নম্বর
ফ্লাইট নম্বর
জাতীয়তা
আগমন দেশ
যে কোনো দায়িত্বশীল (dutiable) পণ্যের বিস্তারিত তালিকা
যদি পর্যটক ১০০ গ্রামের কম duty-free স্বর্ণালঙ্কার বা ২০০ গ্রামের কম রূপার গহনা নিয়ে আসেন, তবে ফর্ম পূরণ বাধ্যতামূলক নয়। এই ক্ষেত্রে, পর্যটকরা “গ্রীন চ্যানেল” ব্যবহার করে দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারেন।
নতুন baggage বিধি ফেরত আসা পর্যটকদের জন্য কাস্টমস প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। ফলে তারা বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে, এবং বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান স্বর্ণমূল্যের প্রেক্ষাপটে এটি বড় সহায়ক প্রমাণিত হবে।
