জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪১ এএম

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় হামলায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের করুণ দৃশ্য অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি ধসে পড়া আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে সিংহভাগই অসহায় নারী ও শিশু। পর্যাপ্ত এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও চরম প্রতিকূলতার মধ্যে উদ্ধারকারীরা প্রায় খালি হাতে ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই মরদেহগুলো বের করে আনেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) টানা চার দিনের নিরবচ্ছিন্ন ও নিখাদ মানবিক প্রচেষ্টার পর ‘কারাম’ নামের সেই আবাসিক ভবনটিতে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য জানিয়ে সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু দান বলেন, গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের কারাম ভবনে একটানা চার দিন ধরে নিবিড় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই স্থানে কাজ শেষ হলেও তাদের মানবিক মিশন থেমে নেই; বিশেষায়িত চিকিৎসাকর্মী এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা গাজা সিটির অন্য একটি স্থানে নতুন করে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া সুবিশাল ও ভারী কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য আধুনিক কিংবা প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির ঘোর সংকট রয়েছে। ফলে উদ্ধারকর্মীদের চরম শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে খুব সাধারণ ও অপ্রতুল সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পুরো ভূখণ্ডজুড়ে বর্তমানে আট হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন।
গত বছরের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও উপত্যকায় প্রাণহানি থামেনি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত অন্তত ১,২৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪,১২১ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৮০৪ জনের মরদেহ বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ হামলায় এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন ১,৭৪,০০০ এরও বেশি সাধারণ মানুষ। নিহত ও আহতদের একটি বড় অংশ বেসামরিক নাগরিক হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ জানানো হলেও গাজার সাধারণ মানুষের মানবিক সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
মন্তব্য