জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২ এএম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত রেখা অতিক্রমের সময় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে ৪-৫ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতের প্রায় ৫০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ওই সময় সীমান্তে টহলরত বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিএসএফের ছোড়া গুলিতে তারা মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য সহযোগীরা সীমান্ত পেরিয়ে দ্রুত বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত তারা মিয়া সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট থাকা তথ্য অনুযায়ী, কুলাউড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও চোরাচালানসংক্রান্ত অপরাধে মামলা রয়েছে। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তিনি এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর নিহত তরুণের লাশ বিএসএফ সদস্যরা তাদের হেফাজতে নিয়ে গেছে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রয়োজনীয় পতাকা বৈঠক এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার এবং এর ফলে বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি এবং অমারাত্মক অস্ত্র (Non-lethal weapons) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
কুলাউড়া সীমান্তেই এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন একই উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মুজিব আলী (২০) নামে অপর এক বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারান। সে সময়ও ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের এ ধরনের সীমান্তিক আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর লাশ ফেরত দেয়।
সীমান্ত বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত অপরাধ দমনে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিচারবহির্ভূতভাবে সরাসরি গুলি চালনার ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। বিজিবি ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনার পর ফ্ল্যাগ মিটিং ও প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে আসছে।
মন্তব্য