খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম

দেশের বীমাশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত পাঁচটি জীবন বীমা কোম্পানির অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে পুরো খাতের ওপর গ্রাহকের আস্থা কমেছে। দেশে বর্তমানে ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির মোট অনিষ্পত্তি দাবির পরিমাণ ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি কোম্পানির অনিষ্পত্তি দাবি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকায়, যা মোট দাবির প্রায় ৮৭ শতাংশ।
আইডিআরএ (ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি) রাজনৈতিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসারে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে, গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এই দুর্নীতিপ্রবণ কোম্পানিগুলোকে তাদের স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করতে হবে।
আইডিআরএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের জীবন ও সাধারণ বীমায় মোট অনিষ্পত্তি দাবি ৭ হাজার ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জীবন বীমায় অনিষ্পত্তি দাবি ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা এবং সাধারণ বীমায় ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।
নিচের টেবিলে মূল পাঁচটি কোম্পানির অনিষ্পত্তি দাবি পরিশোধের হার দেখানো হলো:
| কোম্পানি | অনিষ্পত্তি দাবি (কোটি টাকা) | পরিশোধিত দাবি (কোটি টাকা) | পরিশোধের হার (%) | বাকি দাবি (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| ফারইস্ট ইসলামী লাইফ | ২,৭৫২ | ১৯৪ | ৬.৫৯ | ২,৫৫৮ |
| সানফ্লাওয়ার লাইফ | ৫৯৮ | ১২ | ২ | ৫৮৬ |
| পদ্মা ইসলামী লাইফ | ২৪৯ | ১০ | ৪ | ২৪৯ |
| বায়রা লাইফ | ৭৭.৬৬ | ৫.৪ | ৭ | ৭২.৬৬ |
| প্রগ্রেসিভ লাইফ | ১৬৫ | ২৮ | ১৭ | ১৩৭ |
অপরদিকে, ১০টি কোম্পানি তাদের বীমা দাবির ৯৯ শতাংশের বেশি পরিশোধ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: আলফা ইসলামিক লাইফ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সোনালী লাইফ, মার্কেন্টাইল, সন্ধানী, মেঘনা ও রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স।
আইডিআরএ উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান জানিয়েছেন, “কোম্পানিগুলো যাতে গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করে, সেটি আমাদের সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয়। যারা ব্যর্থ হবে, তাদের স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে দাবির পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।”
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “বিমা খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইডিআরএকে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুসরণ করতে হবে এবং এক সঙ্গে খাতের কার্যকারিতা ও কোম্পানির সংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।”
সংক্ষেপে, দেশের বীমাশিল্পের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ অপরিহার্য। বিশেষ করে দুর্নীতিপ্রবণ কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা না হলে, খাতের ওপর মানুষের আস্থা কমতে থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে।
মন্তব্য