জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্যবহৃত শব্দব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি সংসদ কক্ষে ব্যবহৃত হেডফোন ও শব্দযন্ত্রের কার্যকারিতা এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই ব্যবস্থাটি সংসদ সদস্যদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে অযৌক্তিক ব্যয় এবং অনিয়ম থাকতে পারে।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই শব্দযন্ত্রের ত্রুটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ কক্ষে মাইকের সমস্যা দেখা দিলে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরে তা সাময়িকভাবে সমাধান করে অধিবেশন চালু করা হয়।
রোববার বেলা ১১টায় দিনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আলোচনার একপর্যায়ে শাহজাহান চৌধুরী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য যে হেডফোন দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত ভারী এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা কঠিন। তিনি বক্তব্যের সময় নিজের কানের হেডফোন খুলে হাতে তুলে ধরে দেখান এবং বলেন, এত বড় ও ভারী যন্ত্র মাথায় দিয়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা বসে থাকা অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতেও সংসদের কার্যক্রম হেডফোন ছাড়াই সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের সংসদ অধিবেশন এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও সংসদ কার্যক্রম হেডফোন ছাড়াই পরিচালিত হয়েছিল। তখন সংসদ কক্ষের মাইক এবং শব্দবর্ধক যন্ত্রের মাধ্যমে সদস্যরা সহজেই বক্তব্য শুনতে পারতেন।
শাহজাহান চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শব্দব্যবস্থা চালু করতে একটি বড় বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, সংসদে এমন ভারী যন্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই; বরং সাধারণ ও কার্যকর শব্দব্যবস্থা থাকলেই সংসদ সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন।
তিনি সংসদের শব্দব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে হেডফোন ব্যবহার না করলেও সংসদ সদস্যরা পরিষ্কারভাবে বক্তব্য শুনতে পারেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে হালকা ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হেডফোন সরবরাহের প্রস্তাবও দেন তিনি।
জাতীয় সংসদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা সাধারণত সংসদ সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সংসদ কক্ষে শব্দব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো বক্তার বক্তব্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে ভাষান্তর সুবিধা নিশ্চিত করা। তবে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
নিচে সংসদে শব্দব্যবস্থা নিয়ে উত্থাপিত প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযোগকারী সদস্য | শাহজাহান চৌধুরী |
| রাজনৈতিক পরিচয় | বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য |
| অভিযোগের বিষয় | সংসদ কক্ষের হেডফোন ও শব্দব্যবস্থা অস্বস্তিকর |
| প্রধান সমস্যা | হেডফোন ভারী এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার কঠিন |
| পূর্বের অভিজ্ঞতা | ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সংসদে হেডফোন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে |
| প্রস্তাবনা | সহজ ও কার্যকর শব্দব্যবস্থা চালু করা |
সংসদে উত্থাপিত এ বিষয়টি ভবিষ্যতে সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক সংসদ সদস্যের মতে, সংসদ কক্ষের প্রযুক্তিগত সুবিধা উন্নত করা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন ব্যবহারকারীদের জন্য আরামদায়ক ও কার্যকর হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
