দেশের অর্ধেক অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

বৃষ্টিপাত পরিচালনাকারী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে ঘটেছে। এর বিপরীতে বর্তমানে দেশের অবশিষ্টাংশে পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসও সক্রিয় রয়েছে। মূলত এই পশ্চিমা লঘুচাপের উপস্থিতির কারণেই মৌসুমি বায়ুর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রূপ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর এই মিশ্র প্রভাবে আজ বুধবারও দেশের পাঁচটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে দেশের রাজধানী ঢাকাতেও আজ দুপুরের পর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদেরা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ সকালে গণমাধ্যমকে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, আজ দেশের রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং রংপুর বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। গতকালের তুলনায় আজ দেশের সার্বিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টিপাত বাড়ার কারণে আজ দেশের দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পেতে পারে।

গতকালের দেশের সর্বোচ্চ ও রাজধানীর তাপমাত্রার বিবরণ এবং মৃদু তাপপ্রবাহের পরিমাপ সংক্রান্ত উপাত্ত নিচের তালিকায় উপস্থাপন করা হলো:

ক্রমিক নংতাপমাত্রা ও জলবায়ু সংক্রান্ত ক্ষেত্রনথিবদ্ধ তাপমাত্রা ও পরিমাপের মানদণ্ড
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (যশোর)৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
গতকাল রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (ঢাকা)৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের তাপমাত্রা মানদণ্ড৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
বিগত এপ্রিল মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের হারস্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি
দেশের মোট বৃষ্টিপাতে মৌসুমি বায়ুর অবদানশতকরা ৮০ ভাগের বেশি

গতকালের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল যশোর অঞ্চলে, যার পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল এই একটি মাত্র সুনির্দিষ্ট অঞ্চল ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও পারদ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেনি। আবহাওয়া বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করলে তাকে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসেবে গতকাল যশোর ব্যতীত দেশের অন্য কোথাও কোনো তাপপ্রবাহ সক্রিয় ছিল না।

গতকাল দেশের রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তার পূর্ববর্তী দিনের চেয়ে ঠিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুকের তথ্যমতে, আজও রাজধানীর তাপমাত্রা জনসাধারণের জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং দুপুরের পর ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।

চলতি বছরে স্বাভাবিক সময়সূচির প্রায় এক সপ্তাহ পরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মৌসুমি বায়ুর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে। তবে বিলম্বে প্রবেশ করলেও তা এখন দেশের চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেকটা জুড়েই এখন বর্ষাকালীন বায়ুর শক্তিশালী বিস্তার ঘটেছে।

সাধারণত বাংলাদেশের বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা ৮০ ভাগের চেয়েও বেশি অংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে এই মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে। তবে আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের মূল বর্ষা মৌসুমে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ এর পূর্বে প্রচণ্ড উষ্ণ মাস হিসেবে পরিচিত এপ্রিল এবং মে মাসে দেশে স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছিল। বিশেষ করে বিগত এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেশের সকল অঞ্চলের কৃষিজীবী ও সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের প্রতি লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।