জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৯:২৬ পিএম

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও গোপনে বাজারে বিক্রির অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে পুলিশ হেফাজতে ঠাঁই হয়েছে এক বিএনপি নেতার। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবুল হাসেম মেম্বার, যিনি চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং উক্ত ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের রিফিউজি পাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে আটকে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিএনপি নেতাসহ পরিবহন কাজে নিয়োজিত গাড়ির চালককে জিম্মায় নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বানভাসি মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য জেলা পরিষদ থেকে যে ত্রাণের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে না দিয়ে গোপনে রিফিউজি পাড়ার কয়েকটি খুচরা দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় তরুণ ও বাসিন্দারা একজোট হয়ে হাসেম মেম্বারকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে সেখানে চরম হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং ওই বিএনপি নেতা ও চালক চয়ন বড়ুয়াকে (৪০) পুলিশ হেফাজতে নেয়।
অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই বস্তা ত্রাণের চাল এবং পরিবহন কাজে ব্যবহৃত ‘ঢাকা-মেট্রো-গ-০৬-০০৩০’ নম্বরের একটি চাঁন্দের গাড়ি (জিপগাড়ি) জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম সাকের জানান, স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়া বিএনপি নেতাসহ দুজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জব্দ করা মালামাল নিজের জিম্মায় নিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
এদিকে দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল বিক্রির অভিযোগ উঠলেও বিষয়টিকে স্রেফ ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ। তিনি দাবি করেন, জেলা পরিষদ থেকে দেওয়া ত্রাণের চাল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। তবে গাড়ির ভাড়া বাবদ চালককে ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ না দিয়ে দুই বস্তা চাল দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে এই গোলযোগের সৃষ্টি হয়। থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হলে দলীয় প্রতিনিধি পাঠোনো হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য