জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩১ পিএম

বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য পবিত্র হজ পালন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের আসন্ন হজের জন্য বিমান টিকিটের খরচ এক লাফে আরও ২৫ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিজন হজযাত্রীর বিমান টিকিটের নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬’-এর উদ্বোধনী মঞ্চে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই সুখবর জানান। তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এই সার্বিক ভাবনার ধারাবাহিকতায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা যেন হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কম খরচে হজ পালন করতে পারেন, সেটিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিগত বছরের সাথে বিমান ভাড়ার তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছরেও নানা তদারকি ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছিল। আর এবার সরকারের নতুন সমন্বয়ের ফলে টিকিটপ্রতি আরও ২৫ হাজার টাকা কমানো গেছে। এতে সাধারণ হজপ্রত্যাশীদের বড় ধরনের আর্থিক সাশ্রয় হবে।
কেবল উড়োজাহাজের ভাড়া কমানোই নয়, হজের অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ সামলাতেও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পর্যটন প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে আরোপিত ‘নির্মাণ কর’ প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানকালে হাজিদের আবাসন খরচ কীভাবে আরও কম রাখা যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফলপ্রসূ কথা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও বিশেষ বক্তব্য প্রদানকালে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি জানান, দেশের সিংহভাগ হজযাত্রী বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমেই সৌদি আরব গমন করেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাত্র পাঁচ শতাংশ হাজি সরকারি ব্যবস্থাপনায় যান এবং বাকি ৯৫ শতাংশের ভরসা বেসরকারি মাধ্যম। তাই হাজিদের সেবা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এজেন্সি মালিকদের সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশজুড়ে আগত বিপুলসংখ্যক হজপ্রত্যাশী।
মন্তব্য