আগামী জুন মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল। সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে সফরকারীরা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে বগুড়া, রাজশাহী ও সিলেটে।
সফরের শুরু হবে সাদা বলের ক্রিকেট দিয়ে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে ৮ জুন এবং দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১০ জুন। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল মুখোমুখি হবে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে। চার দিনের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রথম চার দিনের ম্যাচ শুরু হবে ১৭ জুন এবং চলবে ২০ জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয় ও শেষ চার দিনের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৪ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য এই সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, উদীয়মান ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে খেলার সুযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের জন্য সম্ভাব্য খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘এ’ দলের সিরিজগুলোকে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একইসঙ্গে ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেট—দুই ধরনের ফরম্যাটেই ক্রিকেটারদের দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বিশেষ করে চার দিনের ম্যাচগুলো তরুণ ব্যাটার ও বোলারদের দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের সুযোগ এনে দেয়। লাল বলের ক্রিকেটে টেকনিক, ধৈর্য এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা পর্যবেক্ষণে এ ধরনের সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় থাকা ক্রিকেটারদের জন্যও এই সিরিজ নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের জন্যও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত বছরের অক্টোবরের পর এটিই তাদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক সিরিজ। সর্বশেষ তারা হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে তিন দিনের একটি ম্যাচ খেলেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাচ্ছে দলটি।
সফরের ভেন্যুগুলোর মধ্যে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটের একটি পরিচিত মাঠ। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই ভেন্যুর। সাম্প্রতিক সময়ে বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম হলেও ‘এ’ দলের সিরিজ আয়োজনের মাধ্যমে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে সক্রিয় হচ্ছে মাঠটি।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামও দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অতীতেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই মাঠের। অন্যদিকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সিলেটের উইকেট ও আবহাওয়া অনেক সময় ব্যাটার ও বোলার উভয়ের জন্য আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে থাকে, যা চার দিনের ম্যাচগুলোকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে ‘এ’ দলের সিরিজগুলোকে জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেখা হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ তৈরি করাই এ ধরনের সিরিজ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে বিদেশি দলের বিপক্ষে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক ও কারিগরি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বাংলাদেশ সফরের পূর্ণ সূচি অনুযায়ী, প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ৮ জুন বগুড়ায়। দ্বিতীয় ওয়ানডে ১০ জুন একই ভেন্যুতে মাঠে গড়াবে। তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জুন রাজশাহীতে। এরপর প্রথম চার দিনের ম্যাচ শুরু হবে ১৭ জুন সিলেটে এবং দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৪ জুন থেকে একই ভেন্যুতে।
আসন্ন এই সিরিজকে সামনে রেখে দুই দলের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা ক্রিকেটারদের জন্য এই সিরিজ নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
