খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪২ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে শিক্ষিকার বাবার হাতে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী (১৩) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কামাল উদ্দিনকে (৫৫) আটক করে গণধোলাই দেয় এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো ওই ছাত্রী তার শিক্ষিকার বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। ঘরে প্রবেশ করে সে তার শিক্ষিকাকে দেখতে পায়নি। এ সুযোগে শিক্ষিকার বাবা কামাল উদ্দিন তাকে জোরপূর্বক ঘরে ডেকে নিয়ে যান এবং একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি আড়াল করতে ও কাউকে না জানানোর জন্য তিনি ওই শিক্ষার্থীকে ৫০০ টাকা দিয়ে দ্রুত বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
বাড়ি ফিরে ওই শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকে ধরে গণধোলাই দেয় এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত কামালকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে নির্যাতিত ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতেই ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ওই স্থানীয় গ্রামের ইলিয়াছ সওদাগরের ছেলে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতিত ছাত্রীর মায়ের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পুলিশ পাহাড়ায় আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সুবর্ণচরের স্থানীয় অধিবাসী ও সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শিক্ষকের বাড়ি যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা, সেখানে এমন ভয়াবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘৃণ্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
মন্তব্য