খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আটিয়াতলি এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে সুজন নামে এক যুবক জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের প্রতিবাদে ও চুরির ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় আটিয়াতলি মামুনের দোকান এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত সুজন একই এলাকার সেকান্তর মিয়ার ছেলে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, সুজন এলাকায় আসার পর বিভিন্ন বাড়ি ও আশপাশের স্থানে চুরির ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, বাড়ির হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং পুকুরের মাছ পর্যন্ত চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খাসের বাড়ির কামাল হোসেনের মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার চুরি যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকার আব্দুল গফুরের অটোরিকশা এবং তামান্নার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এছাড়া ইব্রাহিমের বাইসাইকেল এবং শাহাদাতের পুকুরের মাছ চুরির অভিযোগও ওঠে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, চুরির ঘটনায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও বিচার চাওয়ার পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এ কারণে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং চুরির ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
ভুক্তভোগী মো. ইব্রাহিম বলেন, সুজন এলাকায় এলেই চুরির ঘটনা ঘটে বলে তিনি মনে করেন। তার অভিযোগ, সম্প্রতি তার একটি বাইসাইকেল চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় দোকানি নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, সুজন মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত এবং চুরির ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। তবে সুজনের বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অটোরিকশাচালক আব্দুল গফুর বলেন, তার নতুন অটোরিকশাটি চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে বিচার চাইলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন। চুরি যাওয়া অটোরিকশা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।
এদিকে পুকুরের মাছ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দোকানি নাজিম উদ্দিনকে সুজন মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও সুজনকে মারধর করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মারধরে আহত হওয়ার পর সুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সুজনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুজন যদি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন চুরির ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
মন্তব্য