পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে ও আঘাত করে হত্যার অপরাধে টাঙ্গাইলে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত ঘাতক স্বামীকে আর্থিক জরিমানা করেছেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের কোর্ট ইনস্পেক্টর আজহারুল ইসলাম।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় পনেরো বছর আগে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সামাদ মিয়ার ছেলে শাহিনুর রহমানের (৩৭) সঙ্গে স্বপ্না বেগমের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সংসারে তৈরি হওয়া সেই পারিবারিক অশান্তি শেষ পর্যন্ত এক ভয়ংকর ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়।
২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভোরের দিকে স্বামী শাহিনুর ও স্ত্রী স্বপ্নার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহিনুর তার স্ত্রী স্বপ্নাকে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে গুরুতর আঘাত করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে স্ত্রীকে ফেলে রেখেই দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী।
পরবর্তীতে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপ্নাকে উদ্ধার করে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্ত্রীর আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের বাবা মন্নান মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের বাসাইল থানায় জামাতা শাহিনুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালত এই হত্যা মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক স্বামী শাহিনুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত আসামি শাহিনুর রহমান সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারকের রায় পাঠ শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য