খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫, ১:২০ পিএম

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য সাফল্যের সাক্ষী হয়েছে চীনের শানতজু প্রতিসংসাল হাসপাতাল। এক শিল্প দুর্ঘটনার শিকার নারী রোগীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কান তার পায়ের পাতা থেকে সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে কয়েক মাস পর সফলভাবে তার মাথায় পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা এটি বিশ্বের প্রথম নজিরবিহীন “অঙ্গপ্রত্যাগর পুনর্বাসন” হিসেবে বিবেচনা করছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটেছে ওই ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার সময় নারীর মাথার চামড়া, একটি কান ও মুখমণ্ডলের কিছু অংশ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখেন যে তার মাথার ত্বকের ক্ষত এতটাই গুরুতর যে সাধারণ পদ্ধতিতে কানের পুনঃস্থাপন সম্ভব নয়।
হাসপাতালের মাইক্রোসার্জারি ইউনিটের প্রধান ডাক্তার কিউ শেনকিয়াং এবং তার দল একটি অনন্য কৌশল অবলম্বন করেন। তারা নারীর কানটি পায়ের পাতা তলদেশে স্থাপন করেন, যেখানে পায়ের রক্তনালী ব্যবহার করে কানকে জীবিত রাখা সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়ায়, কানটি সংরক্ষণ করা হয় যতক্ষণ না মাথার ক্ষত পুনরায় পুনঃস্থাপনার জন্য উপযোগী হয়।
কয়েক মাসের সাফল্যমণ্ডিত সংরক্ষণের পর চিকিৎসকরা কানটি পা থেকে বিচ্ছিন্ন করে মাথায় পুনঃস্থাপন করেন। বর্তমান সময়ে কানটি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সেখানে রক্ত সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে। এই চিকিৎসা কৌশলকে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা বিজ্ঞানে অগ্রণী উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিচের টেবিলটি ঘটনাপ্রবাহ ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরছে:
| ধাপ | সময়কাল | বিবরণ | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| দুর্ঘটনা | ২০২৫ সালের এপ্রিল | মাথার চামড়া ও কান বিচ্ছিন্ন | জীবন রক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা |
| পায়ে সংরক্ষণ | কয়েক মাস | কানটি পায়ের পাতা তলদেশে স্থাপন | রক্তনালী সচল রাখা ও টিস্যু জীবিত রাখা |
| পুনঃস্থাপন | কয়েক মাস পর | কান মাথায় প্রতিস্থাপন | চূড়ান্ত পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক রক্ত সংযোগ |
| বর্তমান অবস্থা | সম্প্রতি | কান সুস্থ | সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার এবং কার্যকরী |
চিকিৎসক কিউ শেনকিয়াং জানিয়েছেন, এই ধরনের জটিল মাইক্রোসার্জারি চিকিৎসা মানুষের অঙ্গপ্রত্যাগ পুনর্বাসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি আরও বলেছেন, “এটি শুধু রোগীর জন্য নয়, সমগ্র চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এক যুগান্তকারী সফলতা।”
এই ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জটিল অঙ্গপ্রত্যাগ পুনর্বাসন এবং রোগীর জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
মন্তব্য