পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটা থেকে ঈদুল আজহার আগের দিন রাত বারোটা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
জানা যায়, সাঁথিয়া পৌরসভা এলাকার সাঁথিয়া বাজার সংলগ্ন ইছামতী নদীর তীরবর্তী ডাইকের পাশে খোলা জায়গাকে অস্থায়ী পশুর হাট হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে গত উনিশ মে উপজেলা পরিষদের হলরুমে ইজারার জন্য নিলাম আহ্বান করা হয়। নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে মোট ছাব্বিশ জন আগ্রহী ব্যক্তি প্রত্যেকে বিশ হাজার টাকা করে জামানত জমা দেন।
পরবর্তীতে নিলাম প্রক্রিয়াকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দিলে পৌর প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেন। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় পুনরায় নিলাম আয়োজন করা হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা হলরুম ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও পাওয়া গেছে। উপজেলা জামায়াতে ইসলামী কর্মপরিষদের সদস্য মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন যে প্রশাসনের একটি পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে অস্থায়ী পশুর হাটের নিলাম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাঁথিয়া পৌরসভা শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, পৌর প্রশাসনের আহ্বান অনুযায়ী তারা নিলামে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তবে জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের গালাগাল ও হুমকির কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই পশুর হাট ইজারা প্রদান করা হয়নি। হাটের ইজারা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ সময়ে পাঁচজনের বেশি মানুষের একত্র হওয়া, সভা-সমাবেশ আয়োজন, মিছিল, মাইক ব্যবহার এবং অস্ত্র বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
নিচে ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| উনিশ মে | উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইজারা নিলাম আহ্বান, ছাব্বিশ জনের অংশগ্রহণ |
| পরবর্তীতে | রাজনৈতিক মতবিরোধে প্রথম দফায় নিলাম স্থগিত |
| বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা | পুনরায় নিলাম শুরু, পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি |
| পরবর্তীতে | বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংশ্লিষ্টদের হলরুম ত্যাগ |
| বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটা | প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি |
এভাবে ইজারা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং এলাকায় সাময়িক বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে।
