বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবার রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) গত ৯ এপ্রিল প্রধান কোচ নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই ২৫০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়ে।
বাফুফের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রাপ্ত আবেদন সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে গেছে। এই অভূতপূর্ব সাড়া আন্তর্জাতিক কোচদের বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংস্থাটির সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি বিশ্বব্যাপী নজর বাড়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, “এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক আবেদন পাওয়া সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের জাতীয় দল এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোচদের কাছেও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।”
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, এবারের আবেদনকারীদের তালিকায় বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোচ রয়েছেন, যা আগের কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেখা যায়নি। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এল সালভাদরের সাবেক জাতীয় দলের প্রধান কোচ ডেভিড ডোনিগা, যিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এছাড়া আবেদন করেছেন ভারত জাতীয় দলের সাবেক কোচ ইগর স্টিমাচ, যিনি তার দায়িত্বকালে ভারতকে দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ইউরোপীয় ফুটবলের পরিচিত নাম দিদিয়ের ওলে, যিনি ফরাসি ক্লাব নিস এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) নারী দলের মতো উচ্চ পর্যায়ের ক্লাবের সঙ্গে কাজ করেছেন, তিনিও এই দৌড়ে রয়েছেন।
তালিকায় আরও আছেন জার্মান কোচ অ্যান্টেইন হেই, যিনি গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, কেনিয়া এবং মিয়ানমার জাতীয় দলের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রাখেন। ফলে এবার বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ পদ নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে শক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বাফুফে জানিয়েছে, প্রাপ্ত ২৫০টিরও বেশি আবেদন থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথমে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। সেই তালিকায় প্রায় ৫০ জন প্রার্থীকে রাখা হতে পারে, যাদের মধ্য থেকে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত কোচ নির্বাচন করা হবে।
ফাহাদ করিম আরও জানান, “প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫০ জনের একটি শর্টলিস্ট করা হবে। এরপর সাক্ষাৎকার পর্যায়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল নিজে প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবেন। এই পর্যায়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নিচে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | ৯ এপ্রিল |
| আবেদন গ্রহণ সময় | ১ সপ্তাহ |
| মোট আবেদন | ২৫০টির বেশি |
| প্রাথমিক শর্টলিস্ট | প্রায় ৫০ জন |
| সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী | বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল |
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এত সংখ্যক কোচের আগ্রহ বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে করে জাতীয় দলের কোচিং স্ট্যান্ডার্ড উন্নত হওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হামজা চৌধুরী ও সামিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির পর জাতীয় দলের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরও বেড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ফুটবল ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ফুটবল মানচিত্রে নতুনভাবে অবস্থান তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবার কেবল একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক
