খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম

জন্মদিন উদ্যাপনের আর মাত্র একদিন বাকি ছিল। কিন্তু সেই দিনটি আর দেখা হলো না আফগানিস্তানের সাবেক তারকা পেসার শাপুর জাদরানের। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আগামীকালই তার ৩৯তম জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল। এই আকস্মিক মৃত্যু আফগানিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।
শাপুর জাদরানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এক শোকবার্তায় বোর্ড গভীর শোক প্রকাশ করে জানায়, দেশের ক্রিকেটের একজন নিবেদিতপ্রাণ সাবেক ক্রিকেটারকে হারানো আফগান ক্রিকেটের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হয়েছে।
আফগানিস্তানের ক্রিকেটের শুরুর দিকের সাফল্যের গল্পে শাপুর জাদরানের নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়। এমন এক সময়ে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের জায়গা করে নিতে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল আফগানিস্তান। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামোগত নানা চ্যালেঞ্জ এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতি সত্ত্বেও সেই প্রজন্মের ক্রিকেটাররা নিজেদের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। সেই দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সদস্য ছিলেন জাদরান।
বাঁহাতি এই পেসার তার গতি, আক্রমণাত্মক বোলিং এবং নতুন বলে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন। একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক—উভয় সংস্করণেই তিনি আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া এবং দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে দায়িত্ব পালন করার কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন তিনি।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে শাপুর জাদরানের নাম। তিনি সেই প্রজন্মের সদস্য, যাদের হাত ধরেই দেশটি প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার যে পথচলা আফগানিস্তান শুরু করেছিল, সেখানে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সেই সময়ের ক্রিকেটারদের যে আত্মত্যাগ ও পরিশ্রম ছিল, জাদরান তার অন্যতম প্রতীক।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পেছনে যেসব ক্রিকেটারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, শাপুর জাদরান তাদের অন্যতম। তার অভিজ্ঞতা, লড়াকু মানসিকতা এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা দীর্ঘদিন সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করেছে। মাঠে তার আগ্রাসী উপস্থিতি যেমন প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলত, তেমনি তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিত।
জীবনের শেষ অধ্যায়ে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে হলেও ক্রিকেটে তার অবদান কখনো ম্লান হবে না। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা, কঠিন সময়েও দলের পাশে থাকা এবং আফগান ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার, কর্মকর্তা এবং অসংখ্য সমর্থক শোক প্রকাশ করেছেন। জন্মদিনের আগের এই বেদনাদায়ক বিদায় শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্যও এক গভীর শোকের অধ্যায় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য