বকেয়া টাকার বিরোধে গুলি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকায় বকেয়া টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে মুলাইদ গ্রামের হাজি কাছম আলী ফকির সুপারমার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, কেওয়া গ্রামের রানা ভান্ডারির সঙ্গে দোকানমালিক ফয়সাল আহমেদের দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। রানা ভান্ডারি পূর্বে দোকান থেকে মালামাল নিয়েছিলেন এবং কিছু টাকা বকেয়া ছিল। ওই বকেয়া টাকা পরিশোধ না করেই পুনরায় মালামাল নিতে চাইলে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

দোকানমালিক ফয়সাল আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রানা ভান্ডারি তার দোকান থেকে ৭২ হাজার টাকার মালামাল নেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ৪২ হাজার টাকা পরিশোধের কথা ছিল ঘটনার দিন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিয়ে আবারও মালামাল নিতে চাইলে দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। স্থানীয়রা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে রাতের দিকে রানা ভান্ডারি ও তার ভাই মামুনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং মালামাল লুট করে নেয়। বাধা দিতে গেলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপরও হামলা চালানো হয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেট মালিকের ছেলে কামাল ফকির (৪০), তার ভাগনে সিয়াম (২২), দোকান ব্যবস্থাপক শাহিন (৩০), কর্মচারী শান্ত (২৫) ও শ্যামল (২২)। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফয়সাল আহমেদের দাবি, হামলার সময় তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়া হয়। তবে তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকজন নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিচে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিলে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানমুলাইদ, শ্রীপুর, গাজীপুর
সময়মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টা
ঘটনার ধরনসশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাট
আহতের সংখ্যাঅন্তত ৫ জন
অভিযুক্তরানা ভান্ডারি ও সহযোগীরা (অভিযোগ)
মূল কারণবকেয়া টাকার লেনদেন বিরোধ
বর্তমান অবস্থাঅভিযুক্তরা পলাতক, তদন্ত চলছে

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী এ ধরনের সহিংস ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে।