নেত্রকোনার চল্লিশা বাইপাস এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারানো তিনজনের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, আর অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শহর থেকে চল্লিশার দিকে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটি ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার দিকে যাচ্ছিল।
সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনাস্থলেই স্মৃতি আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন, পথচারী এবং উদ্ধারকারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তার মা নূরজাহান বেগম (৩৩) ও ছোট বোন ইতি আক্তারকে (১০) উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও মা ও ছোট মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত নূরজাহান বেগম নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলী কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আইনুল হকের স্ত্রী। পরিবারটির সদস্যরা একটি প্রয়োজনীয় কাজে শহরে গিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বাড়ি ফেরার পথেই তাদের জীবনে নেমে আসে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়।
নিহতদের পরিচয়
| নাম | বয়স | পরিচয় |
|---|---|---|
| নূরজাহান বেগম | ৩৩ | মা |
| স্মৃতি আক্তার | ১৬ | বড় মেয়ে |
| ইতি আক্তার | ১০ | ছোট মেয়ে |
দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | চল্লিশা বাইপাস, নেত্রকোনা |
| সময় | রবিবার দুপুর |
| জড়িত যানবাহন | যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশা |
| নিহত | ৩ জন |
| আহত | অন্তত ৩ জন |
| নিহতদের সম্পর্ক | মা ও দুই মেয়ে |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, নিয়ন্ত্রণ হারানো অথবা সড়কে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখার মতো কোনো কারণ এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নিরূপণে কাজ চলছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখনও একটি বড় জননিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালনা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, যানবাহনের ত্রুটি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, সড়কে সামান্য অসতর্কতাও মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নিতে পারে। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু স্থানীয় মানুষের মনে গভীর বেদনা ও শোকের জন্ম দিয়েছে।
