আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করার পথে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগের অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির মুখপাত্র মাহদী আমিন অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সাধারণ মানুষের পবিত্র ধর্মীয় অনুভূতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
Table of Contents
ধর্মীয় শপথ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
মাহদী আমিনের মতে, নির্বাচনের মাঠ সবার জন্য সমান হওয়া জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা হলেও বর্তমানে তা সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ একটি দলের পক্ষে ভোট নিশ্চিত করতে ভোটারদের পবিত্র কুরআন স্পর্শ করিয়ে শপথ করানো হচ্ছে। এটি কেবল অনৈতিকই নয়, বরং সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও আর্থিক লেনদেনের ব্যক্তিগত তথ্য (বিকাশ নম্বর) সংগ্রহ করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রবাসী ভোট ও ব্যালট পেপারের বৈষম্য
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলেও এই প্রক্রিয়াটি বিতর্কের মুখে পড়েছে। মাহদী আমিন কিছু সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও প্রশাসনিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন:
| ক্ষেত্র | বর্তমান সংকট ও অভিযোগ |
| ব্যালট ডিজাইন | ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের অবস্থান এমনভাবে নিচে রাখা হয়েছে যা ভাঁজ করলে দেখা যায় না। |
| প্রতীকের দৃশ্যমানতা | প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতীকগুলো কৌশলে ব্যালটের সুবিধাজনক ও দৃশ্যমান স্থানে রাখা হয়েছে। |
| প্রবাসী ব্যালট | বিদেশে একজনের ফোন নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির ব্যালট সংগ্রহের অভিযোগ। |
| ব্যালট নিরাপত্তা | ওমান, কুয়েত ও সৌদিতে নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের হাতে ব্যালট পেপার থাকার দাবি। |
রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতি ও কমিশনের ভূমিকা
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পারিবারিক ও ধর্মীয় সফর হিসেবে শহীদ আবু সাঈদের মাজার জিয়ারতে উত্তরবঙ্গ যেতে চাইলে কমিশন থেকে তা স্থগিতের অনুরোধ জানানো হয়। আইন ও শিষ্টাচারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সফর বাতিল করলেও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা কমিশনের নির্লিপ্ততাকে স্পষ্ট করে।
ডিজিটাল অপপ্রচার ও আইসিটি সেলের তৎপরতা
বিএনপির নেতৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ডিপফেইক’ ও ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির মাধ্যমে বানোয়াট ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। মাহদী আমিন নিশ্চিত করেন যে:
জাইমা রহমান: তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের কেবলমাত্র ভেরিফাইড (ব্লু-টিক) ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি ছাড়া অন্য সব অ্যাকাউন্ট ভুয়া।
ডা. জুবাইদা রহমান: তার নামে কোনো অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই; যেসব আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে সেগুলো কৃত্রিমভাবে তৈরি।
প্রতিরোধ: বিএনপির আইসিটি দপ্তর ইতিমধ্যে ৫০টিরও বেশি ভুয়া পেজ ও আইডি অপসারণ করেছে এবং মেটা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মাহদী আমিন জানান, আগামী ২২শে জানুয়ারি সিলেট থেকে তারেক রহমান তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। এছাড়া তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে ১৬৫৪৩ নম্বরের একটি ডেডিকেটেড কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। একই সাথে রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জুলাই চার্টারের আলোকে বিএনপি আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
