সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলার ওয়ার্ড-৬-এ শুক্রবার গভীর রাতে একটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক তরুণ ডাক্তারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিবেশ অস্থির হয়ে উঠে, এবং আহত ডাক্তার ও চিকিৎসা সহকারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সকল প্রশিক্ষণরত ডাক্তার কাজ বন্ধ রাখেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা শুরু হয় রোগীর আত্মীয়দের অসন্তোষের কারণে। তারা অভিযোগ করেন যে, রোগীর যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে তারা নৈমিত্তিকভাবে ওয়ার্ডের নার্সদের সঙ্গে বাক্যবিতণ্ডা শুরু করেন, তবে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, আত্মীয়দের একটি দল ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালায় এবং এক নারী সহ প্রশিক্ষণরত ডাক্তারকে হেনস্থা করে। তিনজন ওয়ার্ড সহকারীও আহত হন। এই ঘটনায় হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরই ডিউটিরত প্রশিক্ষণরত ডাক্তাররা হস্তক্ষেপ করেন এবং হামলায় জড়িত তিনজনকে—including একজন নারী—অবস্থান থেকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাদেরকে যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করবে এবং দায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।
তাদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার আন্দোলন চলবে। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নজরদারি করছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার সময় | শুক্রবার, রাত ১২:০০ টা |
| স্থান | চতুর্থ তলা, ওয়ার্ড-৬ |
| আহত | ১ জন প্রশিক্ষণরত ডাক্তার, ৩ জন ওয়ার্ড সহকারী |
| হামলার কারণ | চিকিৎসা লঘুশ্রেণীর অভিযোগ |
| গ্রেপ্তার | ৩ জন, ১ জন নারী সহ |
| প্রতিবাদ | নিরাপত্তা ও ন্যায় নিশ্চিতের দাবিতে কাজ বন্ধ |
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, রোগী ও সাধারণ জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে ফেলতে দেওয়া যাবে না। হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ধাপে ধাপে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
