চট্টগ্রাম মহানগরে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি এলাকায় তিনটি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২২ মে) নগরের ডবলমুরিং এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা তথ্যের ভিত্তিতে এই অপরাধের বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ঘটনাগুলো জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
Table of Contents
ডবলমুরিং থানা এলাকার ঘটনা ও গণধোলাই
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় দুটি পৃথক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী ওই দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে ৭ বছর এবং ১১ বছর। ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু দুটিকে কৌশলে ডেকে একটি পরিত্যক্ত ও খালি প্লটে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা চালানো হয়। তবে ঘটনাটি ঘটার সময় আশেপাশের স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত মো. এহসানকে (৫৫) হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেন।
খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ যখন গণধোলাইয়ের শিকার আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন উত্তেজিত স্থানীয় জনতা পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। পরবর্তীতে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং স্থানীয় লোকজনকে শান্ত করে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্বাস দিয়ে মো. এহসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
ডবলমুরিং থানায় মামলা ও আসামির পরিচয়
ডবলমুরিং থানা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত মো. এহসান পেশায় একটি আবাসিক ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মা বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ উক্ত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করেছে। এই মামলায় এহসানকে একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার ঘটনা ও প্রলোভন
এদিকে একই দিনে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকাতেও আরেকটি অবুঝ শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ বছর। প্রতিবেশী মো. হাসান (৪২) নামের এক ব্যক্তি চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে নিজের কাছে ডেকে নেন। এরপর তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকার ও পরবর্তী শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে এবং দ্রুত পুলিশকে অবহিত করা হয়।
ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের পদক্ষেপ
অপরাধের শিকার হওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে ঘটনার পর পরই উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে প্রতিবেশী মো. হাসানকে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। একদিনের মধ্যে দুই থানায় তিনটি শিশুর ওপর এমন অপরাধের ঘটনায় নগর জুড়ে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।
