খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৫, ৫:৪২ পিএম

মার্কিন শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফের ইউরোপ সফরের ঠিক আগে, বুধবার (২৩ জুলাই) একযোগে ১১১টি আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সফরে যুদ্ধবিরতি এবং ত্রাণ করিডোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এএফপি’র বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। গাজায় ২১ মাস ধরে চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক চাপ ইসরাইলের ওপর বাড়ছে, যেখানে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চরম ঘাটতির সম্মুখীন।
Table of Contents
জাতিসংঘের তথ্যমতে, মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) চালু হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘের সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
“আমাদের সহকর্মীরা ও যাদের আমরা সহায়তা করছি, তারা না খেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছেন” – এই বিবৃতিটি দিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম, এমএসএফ সহ ১১১টি এনজিও।
তাদের প্রধান দাবি:
| দাবি | বিবরণ |
| যুদ্ধবিরতি | অবিলম্বে মানবিক সহায়তার স্বার্থে যুদ্ধবিরতির আহ্বান |
| স্থলপথ খোলা | সব স্থল করিডোর খুলে দিয়ে ত্রাণ পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি |
| জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান | মানবিক সহায়তার কার্যক্রম জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হোক |
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানিয়েছেন, স্টিভ উইটকফ ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন ‘জোরালো আশাবাদ’ নিয়ে যে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক করিডোর গঠনে উভয় পক্ষ সম্মত হবে। সফরের পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।
| পক্ষ | অবস্থান |
| ইসরাইল | তারা দাবি করছে, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বরং হামাসই ত্রাণ লুটপাট করছে, সাধারণ জনগণের কষ্টকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে, এবং ত্রাণ কেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে। |
| হামাস | সরাসরি এই বিবৃতিতে কিছু বলা না হলেও, এনজিও ও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ বলছে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। |
গাজার প্রধান হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, গত তিন দিনে অপুষ্টি ও অনাহারে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এই তথ্যই গাজায় খাদ্য সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে সবচেয়ে করুণভাবে।
মন্তব্য