রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে একটি ফাঁকা মাঠে ফেলে যাওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী ও আতঙ্ক ছড়ানো একটি প্রেসার কুকার বোমা সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। বুধবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে দক্ষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেন। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সেই বিকট শব্দে মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে পুরো আশপাশের এলাকা, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আগের দিন রাতে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের অন্তর্ভুক্ত সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের পাশের একটি ফাঁকা মাঠে রহস্যজনক একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে অপরিচিত তিন ব্যক্তি এসে মাঠের মাঝখানে ওই ড্রামটি ফেলে রেখে দ্রুত সটকে পড়েছিল। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন কৌতূহলবশত ড্রামের কাছে গিয়ে তার ভেতরে কিছু পুরোনো কাপড়চোপড়, একটি পবিত্র কোরআন শরিফ এবং একটি ভারী প্রেসার কুকার দেখতে পান। এরপর তারা সেগুলোকে ড্রাম থেকে বের করে মাঠের মাঝখানে এনে রাখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপদ এড়াতে পুরো মাঠের চারপাশ ঘিরে ফেলে কর্ডন করে রাখেন। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। দুপুরের দিকে পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সুনির্দিষ্ট সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে আশপাশের লোকজনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রেসার কুকার বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটিকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
নির্জন এই মাঠে কে বা কারা এবং কী নাশকতামূলক উদ্দেশ্যে ড্রামের ভেতরে এই বোমাটি এনে রেখেছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সাভার মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে জোরালো ও বহুমুখী তদন্ত শুরু হয়েছে। বোমাটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হলেও সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে চাপা আতঙ্ক ও নানান কৌতূহল বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু নাশকতামূলক ও আতঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনের নিচতলা থেকে পাঁচটি সক্রিয় পাইপ বোমা সুনির্দিষ্ট বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। ওই ভবন থেকে বোমা তৈরির বিভিন্ন রাসায়নিক কেমিক্যাল, গানপাউডার এবং বেশ কিছু বোমা সদৃশ্য বস্তু জব্দ করে ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। রাত দেড়টার দিকে সেই অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এর বাইরেও বুধবার সকালে বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ‘পটকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওই ঘটনার পর সেখানেও পুলিশ, র্যাব এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথভাবে আলামত সংগ্রহ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পরপর ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে।
মন্তব্য